ব্লগসাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়াবলী

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর || বিস্তারিত আলোচনা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: যুদ্ধ পরিচালানার সুবিধার জন্য মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর নির্দেশে দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেছিলেন এম.এ.জি. ওসমানী। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ছিল ১১টি এবং সাব সেক্টর ছিল ৬৪টি। এখানে সেক্টরগুলোর অঞ্চল, সদর দপ্তর এবং কমান্ডারের নাম দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১০ সেক্টর ছিল নৌ সেক্টর এখানে নিয়মিত কোন কমান্ডার ছিল না।

মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর এবং কমান্ডার

"<yoastmark

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর-১

১ নং সেক্টরটি চট্রগ্রাম, পার্বত্য চট্রগ্রাম এবং ফেনী নদী এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল। ১ নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল হরিণা। ১ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন) এবং মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন-ডিসেম্বর)।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর-২

এই সেক্টরটি নোয়াখালী, কুমিল্লা, আখাউড়া, ভৈরব, ঢাকা ও ফরিদপুর নিয়ে গঠিত ছিল। ২ নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল মেঘালয়। ২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এবং মেজর হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর-৩

এই সেক্টরটি আখাউড়া ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ছিল। ৩ নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল কলাগাছি। ৩নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর কে. এম. শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এবং মেজর এ এম নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)।

সেক্টর-৪

৪ নং সেক্টরটি সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই, শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন থেকে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেটের ডাউকি সড়ক নিয়ে গঠিত ছিল। ৪ নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল নাসিমপুর। ৪নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর সি আর দত্ত।

সেক্টর-৫

৫নং সেক্টরটি সিলেট জেলার পশ্চিমাঞ্চল, সিলেটের ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। এটি ছিল সবচেয়ে ছোট সেক্টর। ৫নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল বাঁশতলা। ৫নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর মীর শওকত আলী।

সেক্টর-৬

এই সেক্টরটি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যাতিত সমগ্র রংপুর জেলা ও ঠাকুরগাঁও নিয়ে গঠিত ছিল। ৬ নং সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল মুড়িমাড়ি। ৬ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল উইং কমান্ডার এ একে এম বাশার।

 সেক্টর-৭

৭নং সেক্টরটি রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা ও দিনাজপুরের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল তরঙ্গপুর। ৭ং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর কাজী নুরুজ্জামান।

সেক্টর-৮

৮নং সেক্টরটি সমগ্র কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুরের অংশ বিশেষ এবং খুলনা জেলার দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের সদর দপ্তর বেনাপোল। ৮নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-অক্টোবর পর্যন্ত) এবং মেজর এম এ মঞ্জুর (আগস্ট-ডিসেম্বর)।

সেক্টর-৯

৯নং সেক্টরটি সাতক্ষীরা-দৌলতপুর সড়কসহ খুলনা জেলার সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল এবং বৃহত্তর বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা নিয়ে গঠিত ছিল। এই সেক্টরের সদর দপ্তর ছিল হাসানাবাদ। ৯নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর এম আবদুল জলিল (এপ্রিল-ডিসেম্বর) এবং এম এ মঞ্জুর (অতিরিক্ত দায়িত্ব)।

সেক্টর-১০

১০নং সেক্টরটি অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল চট্রগ্রাম ও চালনা (মংলা) নিয়ে গঠিত ছিল। এর কোন সদর দপ্তর ছিল না। এর কোন কমান্ডার ও ছিল না মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিংপ্রাপ্ত নৌ-কমান্ডারগণই এই সেক্টরে অপারেশন পরিচালনা করতো।

সেক্টর-১১

১১ নং সেক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে গঠিত ছিল। এর সদর দপ্তর ছিল মহেন্দ্রগঞ্জ। ১১নং সেক্টরের কমান্ডার ছিল মেজর আবু তাহের (এপ্রিল-নভেম্বর) এবং ফ্লাইট লেঃ এম হামিদুল্লাহ (৩ নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত)

সেক্টর কমান্ডারদের নামের তালিকা
সেক্টর কমান্ডারদের নামের তালিকা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর সম্পর্কিত কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর

প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার কতজন ছিলেন?
উত্তরঃ ১৬ জন।

প্রশ্নঃ তারামন বিবি কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
উত্তরঃ ১১নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
উত্তরঃ ২নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ সেক্টর ১০ এর প্রধান কাজ কি ছিল?
উত্তরঃ নৌ অভিযান পরিচালনা করা।

প্রশ্নঃ কাকন বিবি কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
উত্তরঃ ৫নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ নূর মোহাম্মদ শেখ কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
উত্তরঃ ৮নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ রুহুল আমিন কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
উত্তরঃ ১০নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান কত নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
উত্তরঃ ৪নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ কোন সেক্টরে নিয়মিত কমান্ডার ছিল না?
উত্তরঃ ১০নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ কমান্ডার গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে? [৩৯তম বিশেষ বিসিএস]
উত্তরঃ ১০নং সেক্টর নিয়ে।

প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়? [২৯তম বিসিএস]

প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়? [২৯তম বিসিএস]
উত্তরঃ ১১টি।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অদীনে ছিল? [১৮তম বিসিএস]
উত্তরঃ ২নং সেক্টরে।

প্রশ্নঃ উইং কমান্ডার এম. কে. বাশার মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন? [ঢাবি ‘খ’ ইউনিট: ১৮-১৯]
উত্তরঃ সেক্টর ৬।

প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধের সময় বরিশাল কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল? [ববি, খ- ইউনিট: ১৪-১৫]
উত্তরঃ ৯ নম্বর।

প্রশ্নঃ সেক্টর নং ৩ এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন- [ঢাবি, খ- ইউনিট: ১১-১২]
উত্তরঃ মেজর এ এন এম নুরুজ্জামান।

প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল? [ঢাবি, ঘ- ইউনিট: ০৮-০৯]
উত্তরঃ ৭ নম্বর।

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর

এগুলো বিসিএস, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষা এবং চাকরি পরিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আরটিকেলটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। তাদেরকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানতে সহায়তা করুন। আপনার যদি কিছু বলার থাকে কিংবা কোনভুল তথ্য পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং কমেন্ট করে জানান।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সারসংক্ষেপ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button